ইতিহাসের ধূল ধূসরিত পৃষ্ঠা যখন আমরা উল্টাই, তখন মৌর্য বা শুঙ্গদের অনেক আগে, প্রায় ১০০০ থেকে ৭০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের সেই কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে ফিরে যেতে হয়। যখন সিন্ধু নদের তীরের যাযাবর আর্যরা তাদের রথ ছুটিয়ে গঙ্গার অববাহিকায় থিতু হতে শুরু করেছে।
পর্ব 2/1: অগ্নির শপথ ও কুরু-পাঞ্চালের উদয়
সময়কাল: ১০০০ - ৯০০ খ্রিষ্টপূর্ব (লোহার বিপ্লব ও অরণ্য বিনাশ)
যজ্ঞের আগুন: আর্যরা বিশ্বাস করত, যেখানে যজ্ঞের আগুন জ্বলেছে, সেই মাটিই তাদের। এই অগ্নিই ছিল জঙ্গল পরিষ্কারের অস্ত্র আর মানচিত্র তৈরির কলম। যে জমি দখল করা হতো, তাকে বলা হতো 'আর্যাবর্ত'।
সময়কাল: ৯০০ - ৮০০ খ্রিষ্টপূর্ব (কুরু-পাঞ্চাল ও রাজতন্ত্রের ভ্রূণ)
ভরত ও পুরু গোষ্ঠী মিলে তৈরি হলো কুরু, আর পাঁচটি গোষ্ঠী মিলে তৈরি হলো পাঞ্চাল। রাজারা তখন আর কেবল গোষ্ঠীর নেতা রইলেন না, তাঁরা হয়ে উঠলেন 'ভূপতি' বা মাটির মালিক। কুরুদের রাজধানী 'হস্তিনাপুর' হয়ে উঠল ক্ষমতার কেন্দ্র।
যৌনতা ও বংশ রক্ষা: এই সময়েই নারীর স্বাধীনতায় প্রথম শিকল পড়ল। গোষ্ঠীর শুদ্ধতা রক্ষার দোহাই দিয়ে নারীদের বাড়ির অন্দরে আটকে ফেলা হলো। বংশ রক্ষার্থে 'নিয়োগ' প্রথার মতো জটিল সামাজিক ও রাজনৈতিক আবশ্যকতাগুলো তখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল।
সময়কাল: ৮০০ - ৭০০ খ্রিষ্টপূর্ব (যজ্ঞের আড়াল ও বর্ণভেদের প্রাচীর)
ব্রাহ্মণ্যবাদের কৌশলী চাল: পুরোহিত শ্রেণি রাজাকে বোঝালেন যে, যজ্ঞ ছাড়া রাজার অস্তিত্ব নেই। রাজা হলেন যজমান, আর ব্রাহ্মণ হলেন মধ্যস্থতাকারী। অশ্বমেধ ও রাজসূয় যজ্ঞের নামে হাজার হাজার গবাদি পশু বলি দেওয়া শুরু হলো।
ঐতিহাসিক আকর: ঋগ্বেদ, শতপথ ব্রাহ্মণ এবং হস্তিনাপুরের প্রত্নতাত্ত্বিক রিপোর্ট।